‘ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব’: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
‘ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব’: প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব।


সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।


মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।


এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ সম্ভব, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’


দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন ও ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’


আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।


নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহ তায়ালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমার অবস্থান থেকে, আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু সম্ভব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করব। আমি ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করব।’


নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের একজন নাগরিক ও মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার এবং যা প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করাই তাঁর দায়িত্ব। সরকারপ্রধান হিসেবে নাগরিকদের প্রতি নিজের কর্তব্য পালনের চেষ্টা করছেন তিনি। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। তাঁদের ভাষ্য, বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি—সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাঁদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তাঁরা।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য।


এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।


এমকে/বিএম২৪