সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযান, বনদস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার ৪ জেলে

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযান, বনদস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার ৪ জেলে

সংগৃহীত

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি


সুন্দরবনে বনদস্যু সম্রাট বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। গত ১১ অক্টোবর দুপুরে খুলনার দাকোপ উপজেলার শিপসা নদীর আরবানিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় বনদস্যুদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।


কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অধীন নলিয়ান আউটপোস্টের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুন্দরবনের দুর্গম এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে। বনদস্যু সম্রাট বাহিনীর আস্তানায় জিম্মি থাকা জেলেদের উদ্ধারে অভিযানটি চালানো হয়।


উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন মইনুর, বাদশা গাজী, সুজন হোসেন ও ইমামুল মল্লিক। তাঁরা সবাই খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা। জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে তাঁরা বনদস্যুদের কবলে পড়েন।


উদ্ধার হওয়া জেলেদের প্রাথমিক জবানবন্দি অনুযায়ী, অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে তাঁদের জিম্মি করে রাখা হয়। এ সময় তাঁদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।


সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন উপকূলের বহু মানুষ। বনদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের কারণে তাঁদের জীবিকা অর্জনে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। দস্যুরা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে বনের দুর্গম খালগুলোকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে বলে ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।


চার জেলেকে উদ্ধারের পর তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানা গেছে। তবে অভিযানে বনদস্যুদের আটক করা সম্ভব না হওয়ায় সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।


কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে বাহিনীটি ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। বনদস্যু সম্রাট বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত তৎপরতা বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে নিয়োজিত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।


এমকে/বিএম২৪