কুড়িগ্রামে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মাঠে ১ হাজার ৭১ কর্মী

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
কুড়িগ্রামে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মাঠে ১ হাজার ৭১ কর্মী

সংগৃহীত

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 


‘ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম, স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলায় ৯৭৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৯৮ জন তত্ত্বাবধায়কসহ মোট ১ হাজার ৭১ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।


সোমবার (১২ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানানো হয়। সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও শহর সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হুমায়ূন কবির, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান মণ্ডল এবং শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।


বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা হবে তথ্য


প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, জেলার পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাব ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য অনলাইন তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হবে। পরে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।


এর মধ্যে শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় ৩৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও চারজন তত্ত্বাবধায়ক এবং সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় ১০৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১১ জন তত্ত্বাবধায়ক দায়িত্ব পালন করবেন।


নারী পরিবারপ্রধানের নামে দেওয়া হবে কার্ড


কর্মসূচির আওতায় পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা মূল্যায়ন করে ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।


তবে নারী পরিবারপ্রধানদের কার্ড দেওয়া হলেও সবাই ভাতা পাবেন না। পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে যোগ্য পরিবারগুলোকে ভাতার আওতায় আনা হবে। প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, ৮৬০ বা তার কম স্কোর পাওয়া নারী পরিবারপ্রধানদের ভাতা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


ডিসেম্বরের মধ্যে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা


প্রেস কনফারেন্সে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।


কার্ডে থাকবে আধুনিক প্রযুক্তি


উপকারভোগীদের জন্য সরবরাহ করা ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি যুক্ত থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকাপে পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়।


এর মাধ্যমে ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের বিক্রয়কেন্দ্র এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ভাতার অর্থ উত্তোলন বা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।


কর্মসূচিতে বরাদ্দ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা


প্রেস কনফারেন্সে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা প্রদানের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।


ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও যোগ্য পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া এবং তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করাই মূল লক্ষ্য। কুড়িগ্রামে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচির সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এমকে/বিএম২৪