আস্ত খাসি না পেয়ে বরের তর্ক, ভেঙে গেল বিয়ে

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
আস্ত খাসি না পেয়ে বরের তর্ক, ভেঙে গেল বিয়ে

সূত্রঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের আয়োজনে বরের জন্য আস্ত খাসি না রাখাকে কেন্দ্র করে কনেপক্ষের সঙ্গে বরের কথা-কাটাকাটি হয়েছে। এ ঘটনার পর বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কনের পরিবার। পরে খাবার খাওয়ানোর পর উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালংকারসহ বরপক্ষকে বাড়ি থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়।


সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বর জুনায়েদ মিয়া জাপানপ্রবাসী।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে আখাউড়ার তোলাতালা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল সোমবার। দুপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য বরযাত্রীসহ কনের বাড়িতে পৌঁছান জুনায়েদ। সেখানে ফুল দিয়ে বরকে বরণ করা হলেও ফুলের তোড়া নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।


পরে বরপক্ষের প্রায় ১৫০ জনসহ উভয় পরিবারের আত্মীয়স্বজনকে খাবার পরিবেশন করা হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বর, তাঁর ভাই ও চাচার জন্য তিনটি বড় ডালায় বিশেষ খাবার দেওয়া হয়। তবে সেখানে আস্ত খাসি না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ। এ নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।


পরিস্থিতি সামাল দিতে বরের ভাই তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে জুনায়েদ তাঁর ভাইকেই বিয়ে করতে বলেন বলে দাবি করেন কনের বাবা সফিকুল ইসলাম। এরপর তিনি মেয়ের বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালংকারসহ বরপক্ষকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলা হয়।


কনের বাবা সফিকুল ইসলাম বলেন, খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় বর আপত্তি জানান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হলে তিনি জানান, আগে আস্ত খাসির কথা বলা হয়নি। বিয়ের পরের অনুষ্ঠানে আস্ত খাসি খাওয়ানোর কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি একপর্যায়ে এমন পর্যায়ে যায় যে তিনি ওই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।


তবে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন বর জুনায়েদ মিয়া। মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, খাওয়াদাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি অর্থ দাবি করে। তিনি ও তাঁর পরিবার ওই দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়।


বরের বড় ভাই উজ্জল মিয়া বলেন, বরযাত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কথা হতে পারে। তবে সেখানে যাওয়ার পর কনেপক্ষ বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে তারা বরকে নিয়ে চলে আসেন।


ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়া বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তাঁর ভাষ্য, খাবার নিয়ে বর খারাপ আচরণ ও বেয়াদবি করায় কনের বাবা বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সব জিনিসপত্রসহ বরপক্ষকে চলে যেতে বলা হয়।



এমকে/বিএম২৪