ঝিনাইদহে শিক্ষিকাকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুট, অজ্ঞান পার্টির ২ সদস্য গ্রেপ্তার
সূত্রঃ বিডি মেইল
মো. আসাদুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাসে অচেতন করে এক শিক্ষিকার স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় আন্তঃবিভাগীয় অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) গাজীপুরের টঙ্গী ও মাগুরা সদর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা দামোদর গ্রামের আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে দুলাল হাওলাদার (৪০) ওরফে ‘মলম দুলাল’ এবং মাগুরা সদর উপজেলার বোগিয়া গ্রামের হাসেম খানের ছেলে মো. তিলক খান (৪৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানার এলাঙ্গী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন যশোর থেকে শাপলা পরিবহনের একটি বাসে করে কোটচাঁদপুরে ফিরছিলেন এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। পথে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাকে ডাবের পানি পান করতে দেন। পানি পান করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে তার স্বামী বাসে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় অজ্ঞাত অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ওই শিক্ষিকার পরিহিত স্বর্ণের চেইন, আংটি ও খাড়ু লুট করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ৩০ জুন ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় দণ্ডবিধির ৩২৮/৩৭৯/৩৪ ধারায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর-১৯, তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছান (পিপিএম-সেবা) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে।
পরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার গাজীপুরের টঙ্গী থানা এলাকা ও মাগুরা সদর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুলাল হাওলাদার ও তিলক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে অচেতন করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অজ্ঞান পার্টির চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।








