তিন মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে রংপুরের সেই ওসিকে বদলি

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
তিন মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে রংপুরের সেই ওসিকে বদলি

সংগৃহীত

আনোয়ারুল ইসলাম রনি, রংপুর ব্যুরো


রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম দুলালকে গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পাওয়ার ঘটনা এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আরও তিনটি মামলার তথ্য আদালতকে না জানানোর অভিযোগে কোতোয়ালি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম নাজমুল কাদেরকে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়।


সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত শনিবার ওই কর্মকর্তা রংপুর ছেড়ে গেছেন।


পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরীর নিসবেতগঞ্জ এলাকা থেকে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম দুলালকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। বিদ্যুৎ আদালতের একটি মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তিনি জামিন পান। এরপর আবারও আত্মগোপনে চলে যান তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।


অভিযোগ রয়েছে, রফিকুল ইসলাম দুলালের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় আরও তিনটি মামলা থাকলেও সেসব মামলার তথ্য আদালতকে জানানো হয়নি। এর মধ্যে জুলাই আন্দোলনে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে করা দুটি মামলাও রয়েছে।


মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে নগরীর সুপার মার্কেটের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৪ মার্চ জয়নাল আবেদীন বাপ্পি বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় রফিকুল ইসলাম দুলালকে ৪৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।


একই দিন বিকেলে নগরীর কৈলাশরঞ্জন হাই স্কুল মোড় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হয়। গত ৯ মে রমজান আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।


এ ছাড়া চলতি বছরের ২১ আগস্ট নগরীর সিও বাজারের কেল্লাবন্দ এলাকায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে নাশকতার পরিকল্পনায় বৈঠক করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ২৮ আগস্ট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।


আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেপ্তারের পরদিন জামিন পাওয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্য মামলাগুলোর তথ্য আদালতকে না জানানোর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ জানান। বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় ছাত্র শক্তির নেতারা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


ঘটনার তদন্তে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ওসি একেএম নাজমুল কাদেরকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।


এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মেইলে ‘গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন আ.লীগ নেতার, মামলা আড়ালের অভিযোগে ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।


রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসিকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। গত শনিবার তিনি রংপুর ছেড়ে গেছেন।’


এমকে/বিডিমেইল২৪