ত্রিশালে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজে পারাপার, দেড় বছরেও চালু হয়নি নতুন সেতু
সংগৃহীত
রাকিবুল ইসলাম, ত্রিশাল প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নে খিরু নদীর ওপর পোড়াবাড়ী বাজার বেইলি ব্রিজটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পাটাতন ভেঙে ও ক্ষয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা। অন্যদিকে, প্রায় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সেতুর কাজ দেড় বছর আগে শেষ হলেও সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেটি এখনো চালু হয়নি। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ত্রিশাল ও পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কে খিরু নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো বেইলি ব্রিজটি ১৯৮০-এর দশকে তৈরি করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেতুটি জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এর বিভিন্ন স্থানের পাটাতন ভেঙে গেছে, কোথাও কোথাও পাটাতন না থাকায় চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ব্রিজটি ব্যবহার করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকেরা।
জনদুর্ভোগ কমাতে ২০২২ সালে পুরোনো ব্রিজের পাশে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি পায় এমসিই-এমএলএম (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন সেতুর মূল নির্মাণকাজ প্রায় দেড় বছর আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন না হওয়ায় সেতুটি এখনো জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। সেতুটি চালুর বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদল সরেজমিনে পরিদর্শন করলেও সমস্যার কার্যকর সমাধান মেলেনি।
গত ২৩ জুলাই ২০২৬ ত্রিশালের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী সেতুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে সেতুটি চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সেই আশ্বাসের পরও সেতুটি চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
সেতুটি ত্রিশালের মঠবাড়ী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও কৃষিপণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করেন। নতুন সেতুটি চালু হলে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে সময় ও ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, জরাজীর্ণ বেইলি ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন সেটি চালু না হওয়ায় জনদুর্ভোগের অবসান হচ্ছে না। সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করা গেলে সেতুটি চালুর পথ সুগম হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত জমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন করে নতুন সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ নেবে। তাঁদের প্রত্যাশা, আর বিলম্ব না করে সেতুটি চালু করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো বেইলি ব্রিজের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি পাবেন ত্রিশাল ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার মানুষ।
এমকে/বিডিমেইল২৪









