ফরিদপুরে জমি কিনেও বসতঘর নির্মাণে বাধার অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির কথা জানালেন ভুক্তভোগী

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
ফরিদপুরে জমি কিনেও বসতঘর নির্মাণে বাধার অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির কথা জানালেন ভুক্তভোগী

সংগৃহীত

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি


ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাষানচর এলাকায় জমি কিনেও বসতঘর নির্মাণ করতে পারছেন না মোঃ ছেঁকেন মোল্লা। জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে মোহাম্মদ ফরহাদ মোল্লা ও তাঁর শ্যালক হিরু শেখ বাধা দেন এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম ভাষানচর এলাকার মোকার ব্রিজসংলগ্ন স্থানে ১০ শতাংশ জমি কেনেন ছেঁকেন মোল্লা। তাঁর বিয়াই মোঃ মোশারফ হোসেন মোকার পরামর্শে বসতবাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিটি কেনা হয়। জমি কেনার প্রায় দুই বছর পর নদীভাঙনের কারণে নিজ এলাকার বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা দেখা দিলে তিনি কেনা জমিতে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ জন্য ইট, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী এনে জমি পরিষ্কার করেন।


ছেঁকেন মোল্লা ও তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর ফরহাদ মোল্লা ও হিরু শেখ কাজে বাধা দেন। পাঁচ লাখ টাকা না দিলে ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলেও তাঁরা দাবি করেন। বিষয়টি স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তাঁরা।


জমির দাতা মোঃ কবির শেখ (৪৫) বলেন, “আমরা দুই ভাই ও এক বোনের ওয়ারিশি সম্পত্তি মোঃ ছেঁকেন মোল্লার কাছে বিক্রি করেছি। জমি বিক্রির সময় ফরহাদ, হিরুসহ আমাদের আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। এরপরও জমি নিয়ে এ ধরনের ঝামেলা করা ঠিক নয়।”


স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রাজ্জাক শেখও জমি বিক্রির পর ফরহাদ ও হিরুর বিরুদ্ধে বিরোধ সৃষ্টির অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, তাঁরা অন্য জায়গাতেও এ ধরনের বিরোধে জড়ান এবং টাকা দাবি করেন।


এদিকে, কুলসুম বেগম (৬২) নামে এক নারী অভিযোগ করেন, ফরহাদ ও হিরু তাঁর জমি বর্গা নিয়েছিলেন। পরে জমি ফেরত চাইলে তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে জমি ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানানো হয় এবং তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।


অভিযোগের বিষয়ে ফরহাদ মোল্লা ও হিরু শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বলেন, “আমরা কারও কাছে টাকা চাইনি। আমাদের জমির বুঝ না পাওয়ার কারণে আমরা মামলা করছি।”


ভুক্তভোগী ছেঁকেন মোল্লা ও তাঁর স্বজনেরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জমির বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বসতঘর নির্মাণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


এমকে/বিএম২৪