ঢাবিতে শিক্ষকের ছেলের গাড়ির ধাক্কায় ৬ শিক্ষার্থী আহত
সংগৃহীত
ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মার্কেটিং বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (এফবিএস) ও মলচত্বর-সংলগ্ন গেটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িটি ভাঙচুর করেন।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন জাহিদুল ইসলাম হৃদয়, কানিজ ফাতেমা, তাসনিয়া বেগম, মিফতাহুল, তাসফিয়া তাবাসসুম ও সিদরাতুল। তাঁরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের মধ্যে দুজনের পায়ে আঘাত লেগে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনায় জড়িত প্রাইভেটকারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামের। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তাঁর ছেলে সাদমান সাকিব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমবার গাড়ি চালানো শেখার জন্য বাবার প্রাইভেটকার নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরছিলেন সাদমান। একপর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও মলচত্বর-সংলগ্ন গেটের সামনে পৌঁছালে গাড়িটি একটি রিকশা ও সড়কে থাকা শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিটকে পড়ে আহত হন।
ঘটনার পর ধারণ করা একটি ভিডিওতে সাদমান সাকিবকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আজকেই প্রথম গাড়ি চালাচ্ছিলাম। ব্রেক ধরতে গিয়ে ভুলে এক্সিলারেটরে চাপ দিয়েছি। আমি সরি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী ফাহিম রহমান বলেন, ‘বিকট শব্দ শুনে রাস্তায় এসে দেখি গাড়িটি রিকশায় জোরে ধাক্কা দেয়। ফলে রিকশায় থাকা শিক্ষার্থীরা ছিটকে পড়ে। এতে কয়েকজন আহত হয়।’
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িতে থাকা দুজনকে মারধর করেন এবং গাড়িটি ভাঙচুর করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে সাদমান সাকিবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তাঁর বিচারের দাবিতে আহত শিক্ষার্থীদের সহপাঠীরা প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, দুর্ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রক্টর আরও জানান, গাড়ি চালানোর সময় চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তিনি তখনো প্রক্টর কার্যালয়ে ছিলেন। এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী যে শাস্তির বিধান রয়েছে, তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
এমকে/বিডিমেইল২৪









