কুবিতে ইআরপি সফটওয়্যার বাস্তবায়নবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সংগৃহীত
কুবি প্রতিনিধি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সফটওয়্যার ইনস্টলেশন, বাস্তবায়ন ও ব্যবহারবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইআরপি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. দুলাল চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সায়াদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সরকার বলেন, ইআরপি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ২০তম ব্যাচের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও ট্যাবুলেটরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ অনুষদের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র জমা দেওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ ছাড়া অন্যান্য অনুষদের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত ফলাফল দুই মাসের মধ্যে প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপ-উপাচার্য আরও বলেন, ইআরপি সফটওয়্যারে ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের জন্য পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও ট্যাবুলেটরদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ফলাফল ইনপুট দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তাঁরা ধারণা পাবেন।
তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত পরীক্ষকদের সফটওয়্যারে নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে আইটিসংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে সহযোগিতা করা হবে। প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রক্রিয়াকরণে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর পরবর্তী সেমিস্টারগুলোর ফলাফল তৈরিতেও শিক্ষকেরা সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারবেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা, ভুল কমানো এবং নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে ইআরপি সফটওয়্যার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কোনো পরীক্ষকের কাছে কতটি উত্তরপত্র রয়েছে এবং সেগুলো যথাসময়ে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তা-ও জানা যাবে। সংশ্লিষ্ট বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হলে বিল কর্তনের ব্যবস্থাও সফটওয়্যারটিতে থাকবে।
উপাচার্য আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের পদোন্নতি, ছুটি, উপযুক্ত অফিসকক্ষ, শ্রেণিকক্ষ ও ইন্টারনেট সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাবার ও নিরাপত্তার পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন নির্ধারিত সময়ে ক্লাস, পরীক্ষা ও ফলাফল পায়, তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ইআরপি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে/বিএম২৪








