গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি, গ্রেপ্তার ১

সংগৃহীত

আমান উল্যাহ আমান, গাজীপুর প্রতিনিধি


গাজীপুরে পাইকারি কাপড়ের মার্কেটে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মো. জুয়েল আহমেদ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।


মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পিবিআই গাজীপুর জেলা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটের এক ব্যবসায়ীর কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মার্কেটটি পুড়িয়ে দেওয়া এবং সুযোগ পেলে ওই ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।


এ ঘটনায় মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিলটন হোসেন বাদী হয়ে বাসন থানায় মামলা করেন। গত ৬ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটিতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটির নম্বর ১০। এতে দণ্ডবিধির ৩৮৫/৫০৬/৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।


ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পিবিআই গাজীপুর জেলা। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে বাসন থানার দিঘীরচালা এলাকা থেকে জুয়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানায় সংস্থাটি।


পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জুয়েল জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাঠারবিল এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছিলেন। অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোতে আসক্ত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিচিতজনের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


তদন্তে জানা গেছে, ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য জুয়েল হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটের সামনে থাকা একটি সাইনবোর্ড থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে ওই নম্বরে ফোন করে এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী আতঙ্কিত হয়ে প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা এবং পরে আরও দুই হাজার টাকা পাঠান। এরপরও অভিযুক্ত ব্যক্তি টাকা দাবি করতে থাকেন। গত সোমবার তাঁকে আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।


উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর ওই পাইকারি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মার্কেটের বড় একটি অংশ পুড়ে যায়। আগুনে বিপুল পরিমাণ মালামাল, নগদ টাকা ও আসবাবপত্রের ক্ষতি হয়। অতীতের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবারও মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পিবিআই।


পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতেও এ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে মার্কেট ও জনসমাগমস্থলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মার্কেটের সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তাপ্রহরী নিয়োগ এবং অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর আসক্তি থেকে মানুষকে দূরে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।


পিবিআই জানায়, মামলাটির তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল রানা। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


এমকে/বিডিমেইল২৪