বকশীগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর জঙ্গল থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত
রতন ইন্তিসার, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের বকশীগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর রোজিনা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে বকশীগঞ্জ-কামালপুর সড়কের দত্তেরচর এলাকায় বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক তানজিদ আলম শাওনকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের দক্ষিণ দত্তেরচর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর মেয়ে রোজিনা আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার ইয়াকুব আলীর বিয়ে হয় ১৭ বছর আগে। গত শুক্রবার দুপুর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
সোমবার সকালে বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সেখানে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে স্বজনরা মরদেহটি রোজিনা আক্তারের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ির সামনে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন রোজিনা। এ সময় কামালপুর থেকে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসা তানজিদ আলম শাওন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে রোজিনা সড়কের পাশের জঙ্গলে ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালকও গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সে সময় তিনি কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পরে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের একপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়। শাওন বাট্টাজোড় নতুন বাজার এলাকার নুর আলমের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের শাশুড়ি নূরেদা বেগম (৭০), ভাসুর কোব্বাত আলী (৫০), তাঁর স্ত্রী রেনুকা বেগম (৪০) এবং কাশেমের স্ত্রী জহুরা বেগমকে (৫০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ছিটকে পড়ে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। জঙ্গলে পড়ে থাকায় তখন কেউ তাঁকে দেখতে পাননি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত মোটরসাইকেলচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এমকে/বিডিমেইল২৪








