বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, কক্ষ তালাবদ্ধ—নেমপ্লেটও উধাও

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পিএম
বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, কক্ষ তালাবদ্ধ—নেমপ্লেটও উধাও

সংগৃহীত

বেনাপোল প্রতিনিধি


যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অফিসকক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। কক্ষের সামনে থাকা নেমপ্লেটও উধাও বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কাস্টমস হাউসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।


প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেডে রাজস্ব বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) আরমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার সরাফউদ্দিন আহমেদের অধীন কর্মরত ওই কর্মকর্তা ঘটনার পর থেকে অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অফিসকক্ষে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। কাস্টমস হাউসের বারান্দায় থাকা কয়েকজন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিও দাবি করেছেন, ঘটনার পর থেকেই কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে।


এদিকে, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখতে চাইলে কাস্টমস হাউসের পরিচালক রুহুল আমিন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ ছাড়া তিনি এ ধরনের ভিডিও ফুটেজ দিতে পারবেন না। তবে ঘটনাটি অনভিপ্রেত পরিস্থিতি ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ থেকে ঘটেছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবর বেলা ৩টা থেকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ষষ্ঠ তলায় রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার রাহাত জানান, কমিশনারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।


যুগ্ম কমিশনার সরাফউদ্দিন আহমেদের কক্ষে তালা থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে রাহাত বলেন, তিনি ছুটিতে থাকতে পারেন। অন্যদিকে, ৪১ নম্বর শেডের ঘটনার বিষয়ে এআরও আরমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) একটি আবেদন জমা দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনটি পর্যালোচনার পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।


এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।


এমকে/বিডিমেইল২৪