যশোরে নিউ সোনা ভাটা দখলের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় মালিক ফেরদৌস বিশ্বাস
সংগৃহীত
মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর প্রতিনিধি
যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া এলাকার ইটভাটা ব্যবসায়ী ফেরদৌস বিশ্বাস নিজের প্রতিষ্ঠিত নিউ সোনা ভাটায় যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, আদালত চত্বর থেকে অপহরণ করে জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পর ওই স্বাক্ষর ব্যবহার করে তাঁর ভাটা দখল করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইয়াসিন আলী চুন্না, কামরুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বর্তমানে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে না পেরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ফেরদৌস।
এ ঘটনায় যশোরের সদর আমলি আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা করেছেন তিনি। মামলাটির নম্বর সিআর ৪৮৭০/২৪। এতে দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৪২, ৩৪৭, ৩৬৪, ৩৮৪, ৫০০(২) ও ১০৯ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও ফেরদৌস বিশ্বাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি বলরামপুরের খোরশেদ বিশ্বাসের ছেলে। মনিরামপুরের উত্তরপাড়া মৌজায় প্রায় ৩৫ বিঘা জমিতে ২০১২ সালে ‘শাপলা’ নামে একটি ইটভাটা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এর মধ্যে নিজের জমি ছিল ১৬ বিঘা; পাশাপাশি অন্যের জমি বার্ষিক লিজ নিয়ে ভাটাটি পরিচালনা করতেন। পরে ২০১৭ সালে ভাটাটির নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ সোনা’ রাখা হয়। এ ব্যবসায় তাঁর একজন অংশীদারও ছিলেন।
ফেরদৌসের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে গেলে রামনগরের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে ইয়াসিন আলী চুন্না, গোপালপুরের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কামরুলসহ আরও চারজন তাঁকে আদালত ভবনের সামনে থেকে জোরপূর্বক একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর জোর করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর।
ফেরদৌসের ভাষ্য, ওই স্বাক্ষরকে কাজে লাগিয়েই অভিযুক্তরা তাঁর নিউ সোনা ভাটার দখল নিয়েছেন। ফলে তিনি বর্তমানে নিজের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারছেন না।
এদিকে, জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মনিরামপুরের সিভিল জজ আদালতেও একটি দেওয়ানি মামলা করেছেন ফেরদৌস বিশ্বাস। মামলাটির নম্বর দেওয়ানি ৩৩২/২৬। এতে ইয়াসিন আলী চুন্নাকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে উত্তরপাড়া মৌজার আরএস খতিয়ান নম্বর ১৫১, ৫৯৭, ৫৯৬, ১৫২, ২৯৬, ৪৩১ ও ৬১২ এবং আরএস দাগ নম্বর ২, ৩, ৬, ৭, ৮, ৯, ৪৮৭, ৪৮৮, ১০, ৪৮৫ ও ৪৯০-এর জমির উল্লেখ রয়েছে। ফেরদৌসের দাবি, এসব দাগের মোট ৪৯১ শতক জমির মালিক তিনি।
এ ছাড়া ইয়াসিন আলী চুন্নার বিরুদ্ধে নিজ গ্রাম, ভাটপাড়া ও আশপাশের এলাকায় জমি জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। নিষিদ্ধ সর্বহারা গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে চুন্নার সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও একটি সূত্র দাবি করেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এমকে/বিএম২৪









