উপকূলের প্রতিটি ঘরে পৌঁছাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
উপকূলের প্রতিটি ঘরে পৌঁছাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট স্থায়ীভাবে নিরসনে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পরিবারের কাছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে সরকারি পুকুরগুলো সংস্কার করে সেগুলোকে সংরক্ষিত মিঠা পানির আধারে রূপান্তর করা হবে, যাতে উপকূলের মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা নিশ্চিতভাবে পায়।

শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চত্বরে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ কর্মসূচির আওতায় অতি দরিদ্র পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রামপাল ও মোংলাসহ উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট বিরাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং লবণাক্ততার কারণে নিরাপদ পানির উৎস ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রাথমিকভাবে তিন হাজার পানির ট্যাংক বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এদিন ৮২টি পরিবারের হাতে ট্যাংক তুলে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, উপকূলের অধিকাংশ পানির উৎস লবণাক্ত হওয়ায় অনেক টিউবওয়েলের পানিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণই নিরাপদ সুপেয় পানির অন্যতম কার্যকর ও টেকসই সমাধান। তাই প্রতিটি পরিবারের কাছে ধাপে ধাপে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ট্যাংক পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরকারি পুকুর সংস্কারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের সরকারি পুকুরগুলো পুনঃখনন ও সংস্কার করে সংরক্ষিত মিঠা পানির আধার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এসব পুকুরে মাছ চাষের অনুমতি দেওয়া হবে না, যাতে সেগুলো কেবল নিরাপদ সুপেয় পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

অনুষ্ঠানে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসী, বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন, রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাজীব আল রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, একই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে অতি দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণের ঢেউটিন, নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংকও বিতরণ করা হয়।