আইইউটির ৩৮তম সমাবর্তনে ডিগ্রি পেলেন ৬৫৯ গ্র্যাজুয়েট

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
আইইউটির ৩৮তম সমাবর্তনে ডিগ্রি পেলেন ৬৫৯ গ্র্যাজুয়েট

সংগৃহীত

আমান উল্যাহ আমান, গাজীপুর প্রতিনিধি


গাজীপুরের বোর্ডবাজারে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ সমাবর্তনে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) ১৬টি সদস্য দেশের ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।


সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য ড. হোসেন আরাবি নূর, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, শিক্ষক, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখা, উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হওয়া এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ ও বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।


সমাবর্তন বক্তা মাহদী আমিন ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ তাঁদের বক্তব্যে নৈতিকতা, আজীবন শিক্ষাগ্রহণ এবং অর্জিত জ্ঞান মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, শিক্ষাজীবনের অর্জনকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে হবে।


সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ বলেন, আইইউটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ ও উৎকর্ষভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে কাজ করছে। গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহসহ বিশ্বব্যাপী উন্নয়নে অবদান রাখা বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম লক্ষ্য।


গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডিগ্রি অর্জন কেবল একটি সনদ পাওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে সততা, পেশাদারত্ব ও সহমর্মিতার মাধ্যমে সমাজের সেবা করার দায়িত্বও জড়িয়ে রয়েছে।


এদিকে, ওআইসির মহাসচিব ও আইইউটির চ্যান্সেলর ইসমাইল ওল্ড শেখ আহমেদ তাঁর বার্তায় নৈতিক নেতৃত্ব তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূমিকার প্রশংসা করেন। বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের সমাবর্তনে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ১৫৫ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ১৪৯ জন, মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ১৪৭ জন, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ১২৬ জন, বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ৫৭ জন এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন বিভাগ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন।


অনুষ্ঠানে অসাধারণ একাডেমিক কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সুমাইয়া আহমেদ রানীকে ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’ দেওয়া হয়। এ ছাড়া আশফাক সিরাজ শুভ, মুহাম্মদ সাফায়াত জামিল, খালিদ হাসান আদর, আদিবা জাহীন, ফারহান লবিব ও তাসফিয়া মাহমুদকে ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়।


সমাবর্তনে বক্তারা ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে দক্ষতা, সততা ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে দেশ-বিদেশের উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণে অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


এমকে/বিএম২৪