প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে মোরেলগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ক্লাস বর্জন

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে মোরেলগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ক্লাস বর্জন

সংগৃহীত

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি


বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বেতকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান তালুকদারের পদত্যাগের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতি, শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং তাঁদের ‘কিশোর গ্যাং’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগে এ কর্মসূচি পালন করে তারা।


রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে স্লোগান দেয় তারা। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বিদ্যালয়ে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।


বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা, অর্থ আদায় এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের ‘কিশোর গ্যাং’ বলে মন্তব্য করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা, নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি আদায়ের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।


বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এর আগেও কয়েক দফায় তারা আন্দোলন করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক এমএস আলীকে নিরাপত্তাকর্মী এমরান হোসেন লাঞ্ছিত করেছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১ অক্টোবর আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই নিরাপত্তাকর্মী প্রধান শিক্ষকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।


বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান তালুকদারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১ অক্টোবর প্রথম আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ওই সময় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠান। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষার্থীরা শর্তসাপেক্ষে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। তবে আশ্বাস অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলে আবারও আন্দোলনে নেমেছে তারা।


অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান তালুকদার বলেন, “যেদিন গোলযোগ হয়েছে, সেদিন আমি বিদ্যালয়ে ছিলাম না। শিক্ষার্থীরা কী কারণে আন্দোলন করছে, সেটিও আমি জানি না। তবে পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে ষড়যন্ত্রকারীরা এসব বিষয় উসকে দিচ্ছে বলে আমার ধারণা।”


এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের ঘটনাটি তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আকতারুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি শিগগিরই ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেবে।


শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


তবে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।


এমকে/বিএম২৪