উচ্চ শব্দে গান ছেড়ে ভাঙা হয় গৃহবধূর দাঁত, কাস্তে গরম করে দেওয়া হয় ছ্যাঁকা

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
উচ্চ শব্দে গান ছেড়ে ভাঙা হয় গৃহবধূর দাঁত, কাস্তে গরম করে দেওয়া হয় ছ্যাঁকা

সূত্রঃ সংগৃহীত

জয়পুরহাট প্রতিনিধি


জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে মাছুদা বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।


এ ঘটনায় নিহত মাছুদার ভাই বছির উদ্দিন বাদী হয়ে কালাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলার পর শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত স্বামী মেহেদী হাসান ওরফে শাপলাকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


মেহেদী হাসান কালাই উপজেলার হারুঞ্জা শাহাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে। আর মাছুদার বাবার বাড়ি পাশের ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া গ্রামে। প্রায় ২০ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।


মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় মাছুদার কাছে যৌতুক দাবি করতেন তাঁর স্বামী। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।


নিহতের ভাই বছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, তাঁর বোন মাছুদা ২০ শতক জমি ভাগে পেয়েছিলেন। ওই জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য তাঁর ভগ্নিপতি চাপ দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁকে এক লাখ টাকা দেন। পরে আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়।


এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে যৌতুকের দাবিতে মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের ভেতর উচ্চ শব্দে গান বাজান মেহেদী হাসান। এরপর প্লায়ার্স দিয়ে তাঁর মুখে আঘাত করা হলে দুটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে কাস্তে গরম করে তাঁর হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।


একপর্যায়ে মাছুদা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।


বছির উদ্দিন বলেন, যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় তাঁর বোনকে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।


কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



এমকে/বিএম২৪