পাঁচ বছরেই বেহাল আড়াই কোটি টাকার সড়ক, অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও ভোগান্তি
সূত্রঃ বিডি মেইল
রতন ইন্তিসার, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রায় ডজনখানেক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলেও ইউনিয়নবাসীর নিত্যদিনের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামপুর-বকশীগঞ্জ প্রধান সড়কের বেহাল দশা নিয়ে কার্যকর উদ্যোগের দেখা মিলছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অনেক জায়গায় পিচ উঠে গেছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলোতে পানি জমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালক। সড়কের বেহাল অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সংস্কার না করা হলে সড়কটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট নয়, সড়কটির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজন টেকসই সংস্কার।
বর্তমানে মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর স্থায়ী সমাধানে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। প্রায় ডজনখানেক প্রার্থী এলাকায় নিজেদের অবস্থান জানান দিতে সক্রিয় রয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে যখন এত প্রার্থী, তখন জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসবেন কে?
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে ভারী যানবাহন চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সড়কের নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে।
এমকে/বিডিমেইল২৪









