বিজেপির বিরুদ্ধে ‘কালো জরুরি অবস্থা’ জারির অভিযোগ আম আদমি পার্টির

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
বিজেপির বিরুদ্ধে ‘কালো জরুরি অবস্থা’ জারির অভিযোগ আম আদমি পার্টির

সংগৃহীত

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে নয়াদিল্লি ও আশপাশের এলাকায় ‘কালো জরুরি অবস্থা’ জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আম আদমি পার্টি (এএপি)। দলটির দাবি, বিক্ষোভ দমনে কেন্দ্রীয় সরকার রাজধানীকে কার্যত সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করেছে।


শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ অভিযোগ করেন দিল্লির সাবেক ক্ষমতাসীন দলটির বিধায়ক গোপাল রায়। সিজেপির দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেন।


গোপাল রায় বলেন, “সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় সরকার নয়াদিল্লিকে সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করেছে। যত বাহিনীই মোতায়েন করা হোক না কেন, এই আন্দোলন দমন করা যাবে না।”


এএপির দিল্লি শাখার সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজও বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনকারীরা অহিংস উপায়ে নিজেদের দাবি জানাতে চান। কিন্তু বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের কারণে সেখানে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।


এক ভিডিও বার্তায় ভরদ্বাজ বলেন, তরুণদের জোর করে চুপ করিয়ে রাখা যায় না। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এএপি অহিংসা ও ভারতের সংবিধানে বিশ্বাসী।


ভোটার তালিকায় কথিত কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি। দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি না দিলেও নির্ধারিত সময়েই বিক্ষোভ শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল সংগঠনটি।


বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে তিন শতাধিক ক্যামেরা বসানো হয়। এ ছাড়া নয়াদিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং দিল্লিগামী ২৫০টি ট্রেন বাতিলের কথা জানানো হয়েছে।


শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে চালানো অভিযানে নয়াদিল্লি ও আশপাশের এলাকা থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিজেপির শীর্ষ সংগঠক অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা, দলের আইন শাখার প্রধান রত্না সিং এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীও রয়েছেন।


এদিকে শুক্রবার এএপির সর্বভারতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে তিনি তরুণদেরও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


সূত্র: এনডিটিভি।


এমকে/বিএম২৪