ডেঙ্গু ঠেকাতে বাগেরহাটে ৯০ দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
সূত্রঃ সংগৃহীত
প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাগেরহাটে শুরু হয়েছে ৯০ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা তৈরিতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় জেলার সব উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিশেষ করে যেসব স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকে এবং এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর আশঙ্কা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, নির্মাণাধীন ভবন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাসাবাড়িতে ফুলের টব, পানির পাত্র, ড্রাম কিংবা পরিত্যক্ত কোনো সামগ্রীতে পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের পাশাপাশি এর প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকলেও আশপাশে জমে থাকা পানির পাত্র থাকলে সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটতে পারে। এ কারণে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার পাশাপাশি সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, স্কাউট, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির জন্য লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমও চালানো হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ৯০ দিনের এ কর্মসূচি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত তদারকি করা গেলে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। এজন্য কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
এমকে/বিএম২৪








