মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, মব সৃষ্টির চেষ্টা

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, মব সৃষ্টির চেষ্টা

সূত্রঃ সংগৃহীত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি


গাইবান্ধা সদর উপজেলার দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পল্লী চিকিৎসক হাছান আলীর বিরুদ্ধে মেয়েকে জড়িয়ে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে মাদরাসায় গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক ছাত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে। এ সময় স্থানীয়রা ওই পরিবারের সদস্যদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়।


শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি মোড় এলাকায় অবস্থিত দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।


মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত সবুর মিয়ার ছেলে জিবু মিয়া তার স্ত্রী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসায় যান। এ সময় তার মেয়েও তাদের সঙ্গে ছিলেন। সেখানে তারা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান বলে অভিযোগ করা হয়।


পরে স্থানীয়রা তাদের আচরণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে মনে করে মাদরাসা প্রাঙ্গণে তাদের আটকে রাখেন। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে আসেন। এরই মধ্যে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানায়। পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিবু মিয়া, তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়।


মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় আসাদুল নামের এক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ছাত্রীর বাবা জিবু মিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাছান আলীকে জড়িয়ে ওই ছাত্রীর শরীরে হাত দেয়ার অভিযোগ ছড়ান। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাছান আলীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েক দিন আগে সদর থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ দেয়া হয়। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাছান আলীর ছেলে পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মিথ্যা ঘটনা তৈরি করে তারা মাদরাসায় এসে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। পরে তাদের আটকে রেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।’


নজরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ‘মেয়ের বিয়ের জন্য জিবু মিয়া মোস্তা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমার বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। বাবা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েক দিন আগে থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করা হয়। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তদন্তে যা আসবে, সেটিই মেনে নেব।’


তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করা হলেও শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ করা হচ্ছে। মেয়েটিকে তার পরিবার মারধর বা জোর করে কোনো বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


অভিযুক্ত হাছান আলী তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, ‘মেয়েটিকে সন্তানের মতো দেখতাম। তারা গরিব হওয়ায় প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে কম নেয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগ করা হয়ে থাকে, তাহলে আমি শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার দেব। তিনি সব দেখবেন।’


অন্যদিকে ছাত্রীর বাবা জিবু মিয়া বলেন, ‘আমি আমার মেয়ের বিষয়ে বিচার চাই। আমার মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে।’


সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হুদা বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল বলেন, ‘৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে আমিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। যেহেতু মেয়ের পরিবারের অভিযোগ রয়েছে, সেজন্য তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের থানায় নেয়ার অন্য কোনো কারণ নেই। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


এমকে/বিএম২৪