ধানমন্ডি লেক সংস্কারে ৭৫ কোটি টাকার পরিকল্পনা

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ধানমন্ডি লেক সংস্কারে ৭৫ কোটি টাকার পরিকল্পনা

সূত্রঃ সংগৃহীত

 নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও পরিবেশগত সংকট দূর করে এটিকে আরও নিরাপদ, সবুজ ও নান্দনিক করে তুলতে ৭৫ কোটি টাকার সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। একই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ‘নজরুল সরোবর’, যা ‘বিদ্রোহী চত্বর’ নামেও পরিচিত হবে।


প্রস্তাবিত প্রকল্পে মোট ৭৫ কোটি টাকার মধ্যে লেক সংস্কার ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে ৫০ কোটি টাকা। আর প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে নজরুল সরোবর।


প্রায় ৮৬ একর আয়তনের ধানমন্ডি লেকের প্রায় ৫৫ একরজুড়ে রয়েছে জলাশয়। পুরোনো পাণ্ডু নদীর অবশিষ্টাংশকে ঘিরে ষাটের দশকে গড়ে ওঠা এই লেক বর্তমানে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ ও বিনোদনকেন্দ্র। প্রতিদিনই হাজারো মানুষ এখানে হাঁটাহাঁটি ও অবসর কাটাতে আসেন।


তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সমস্যায় লেকটির পরিবেশ ও সৌন্দর্য অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই লেকের বিভিন্ন অংশ এবং পাশের রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।


ডিএসসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, লেকের পাড় সংরক্ষণ, ঢাল শক্তিশালী করা, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং হাঁটার পথ সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি আলোকসজ্জা, সীমানাপ্রাচীর ও নিরাপত্তা রেলিং উন্নত করা হবে।


প্রকল্পে তিনটি ভাসমান ডেক, বিভিন্ন কিয়স্ক, আধুনিক জিমনেসিয়াম, লাইব্রেরি, প্রদর্শনী গ্যালারি, ক্যাফেটেরিয়া, উন্মুক্ত মঞ্চ, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, শরীরচর্চার জন্য খোলা স্থান ও পার্কিং সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


লেকের আশপাশের গাছপালার পরিচর্যা ও রোগবালাই থেকে সুরক্ষার জন্য বিশেষায়িত ‘ট্রি হাসপাতাল’ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, আধুনিক সাইনবোর্ড ও পথনির্দেশনা, সিসিটিভি নজরদারি এবং অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম স্থাপন করা হবে।


প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ নজরুল সরোবর নির্মাণ। ধানমন্ডির ১৩/এ ও ৮/এ সড়কের পাশে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের বিপরীতে প্রায় ৫০ দশমিক ৯৬৭ কাঠা জমিতে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।


নজরুল সরোবরে নজরুলসংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার জন্য উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার থাকবে। শিল্পীদের জন্য থাকবে গ্রিনরুমও। পাশাপাশি কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রিয় খাবার নিয়ে রেস্তোরাঁ, জনসাধারণের জন্য শৌচাগার এবং তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে তথ্যফলক স্থাপন করা হবে। এসব তথ্যফলকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসও তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।


এ ছাড়া কবির বিদ্রোহী চেতনা ও সাহিত্যকর্মকে কেন্দ্র করে বুক কর্নার, নগর বন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কেন্দ্রীয় প্লাজা এবং লেকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে একটি ঘাট নির্মাণ করা হবে। পথচারীদের জন্য পৃথক হাঁটার পথও থাকবে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, নজরুল সরোবরের মাধ্যমে নজরুলের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে। কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের কাছাকাছি হওয়ায় এটি নজরুলের সাহিত্যকর্ম প্রচারেও ভূমিকা রাখবে।


ডিএসসিসি নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই মূল কাজ শুরু হবে।


প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএসসিসির প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, লেকের তলদেশ পরিষ্কারের আগে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষামূলক বা পাইলট কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর লেকের তলদেশ পরিষ্কার, ধানমন্ডি লেক সংস্কার এবং নজরুল সরোবর নির্মাণের কাজ একযোগে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।



এমকে/বিএম২৪