হোটেলে থেকে রেকি, পরে দেয়াল কেটে চুরি: কারুশ্রী মামলায় গ্রেপ্তার ৮

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
হোটেলে থেকে রেকি, পরে দেয়াল কেটে চুরি: কারুশ্রী মামলায় গ্রেপ্তার ৮

সূত্রঃ সংগৃহীত

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো:


রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই ঘটনায় চোরাই স্বর্ণ-রুপা কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজনকে খুলনা এবং সাতজনকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানের কাছ থেকে চোরাই ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে পুলিশ পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


গ্রেপ্তাররা হলেন—বাগেরহাটের মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক এলাকার মো. ফজলুল হকের ছেলে মো. রুস্তম আলী শেখ (৬৪); পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) এলাকার আ. হাকিমের ছেলে স্বপন (৬২), একই গ্রামের মানিক ফকিরের ছেলে উজ্জল (৩৭), মতি ফকিরের ছেলে রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯); বাগেরহাটের শরণখোলা থানার খোন্তাকাটা (জিমতলা) এলাকার মোসাকের ছেলে আবু তালেব (৪৫); একই থানার পূর্ব খোন্তাকাটা এলাকার শেখ ফজলু শেখের ছেলে মো. কালাম শেখ (৪৮) এবং পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা এলাকার আ. হাকিমের ছেলে ইউনুস (৪৫)।


এ ছাড়া চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগে চাঁদপুরের কচুয়া থানার সরকার বাড়ি বজনীখোলা এলাকার রফিজ উদ্দিনের ছেলে রবিউল হাসান (৪৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি চোরের দল কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকান বসিয়ে কৌশলে জটলা তৈরি করে। পরে পাশের একটি স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তারা। সেখান থেকে কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে দোকানে ঢোকে চক্রটি।


এরপর দোকানের সিন্দুক থেকে আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা, তিন বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।


মামলার তদন্তে আরএমপির ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিট যৌথভাবে কাজ করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে আসামিদের শনাক্তের পর গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশের দাবি, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে চুরি করত। তারা একটি মোবাইল ফোন একবারের বেশি ব্যবহার করত না। ব্যবহৃত সিমগুলোও অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত ছিল। চুরির পর দ্রুত স্থান পরিবর্তন করত তারা এবং কোনো এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করত না।


তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চক্রটি বছরে এক থেকে দুটি বড় ধরনের চুরি করত। প্রতিটি চুরির আগে প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকা পর্যবেক্ষণ করে নিরাপদে প্রবেশ ও বের হওয়ার কৌশল ঠিক করত। কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় চার মাস আগে চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে ব্যবসার আড়ালে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করেছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।


আরএমপি জানিয়েছে, চুরি যাওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



এমকে/বিএম২৪