৫ মাস ধরে কমিশনহীন দুদক, থমকে দুর্নীতি দমন

প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
৫ মাস ধরে কমিশনহীন দুদক, থমকে দুর্নীতি দমন

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক



দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চেয়ারম্যান ও কমিশনারবিহীন অবস্থায় রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে প্রতিষ্ঠার ২১ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় কমিশনশূন্য থাকায় সংস্থাটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তি, নতুন অনুসন্ধান, গ্রেপ্তার, সম্পদ জব্দ, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আটকে আছে। এতে একদিকে দুর্নীতিবাজরা সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


গত ৩ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পদত্যাগ করার পর আজ পর্যন্ত নতুন কমিশন গঠন করা হয়নি। এ সময়ে দুদকে প্রায় ১৩ হাজার অভিযোগ জমা পড়লেও সেগুলোর অধিকাংশই নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কমিশন না থাকায় নতুন কোনো অনুসন্ধান শুরু করা যাচ্ছে না। আগের তদন্তগুলোও ধীরগতিতে চলছে। কমিশনের অনুমোদন ছাড়া আসামি গ্রেপ্তার, ফাঁদ মামলা পরিচালনা, জামিনের বিরুদ্ধে আপিল কিংবা বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মইদুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী আগের কমিশন পদত্যাগের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন কমিশন গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই দায়িত্ব পালন হয়নি, যা আইনের লঙ্ঘন। তার মতে, এত দীর্ঘ সময় দুদকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অচল থাকা দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা।


এদিকে দুদকের নবনিযুক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, সার্চ কমিটির কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর খুব শিগগিরই নতুন কমিশন গঠন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক বা দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে সৎ, দক্ষ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। এতে দুদকের প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।


গত ২২ জুন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে প্রধান করে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। পরে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে আবেদন আহ্বান করলে তিন শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। আইন অনুযায়ী, প্রতিটি পদের বিপরীতে দুটি করে নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে সার্চ কমিটি। সেখান থেকেই চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হবে।


নতুন কমিশনে চেয়ারম্যান ও কমিশনার হিসেবে সাবেক বিচারক, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও প্রশাসনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির নিয়োগের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।


২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বিভিন্ন কারণে মাত্র তিনটি কমিশন পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে সক্ষম হয়েছে। সর্বশেষ কমিশনের পদত্যাগের পর সৃষ্ট শূন্যতা এবারই সবচেয়ে দীর্ঘ হওয়ায় দ্রুত নতুন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



এমকে/বিএম২৪