চিতলমারীতে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ‘ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার অব এমপাওয়ারমেন্ট’ প্রকল্পের উদ্যোগ

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৯ এএম
চিতলমারীতে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ‘ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার অব এমপাওয়ারমেন্ট’ প্রকল্পের উদ্যোগ

সূত্রঃ সংগৃহীত

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:


বাগেরহাটের চিতলমারীতে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সমস্যা সমাধানে ‘ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার অব এমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে চিতলমারী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


বাগেরহাট-১ আসনের বিএনপির কান্ডারী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বিএনপি নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় বিএনপির ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।


সভায় চিতলমারীর বিভিন্ন এলাকার সুপেয় পানির সংকট, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, গভীর নলকূপ স্থাপন, খাল-নদী পুনঃখনন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা নিজ নিজ এলাকার পানির সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।


চিতলমারী উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান হাবিব ঠান্ডু বলেন, সুপেয় পানির অভাবে উপজেলায় দিন দিন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। উপজেলার অনেক স্কুল-কলেজেও পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নেই। তাই দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা গেলে চিতলমারীর পানির সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে এজন্য বাড়িতে বাড়িতে পানি সংরক্ষণের ট্যাংক প্রয়োজন, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।


উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু বলেন, চিতলমারীতে সুপেয় পানির পাশাপাশি ড্রেনেজ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থারও সংকট রয়েছে। চিতলমারী বাজারসহ উপজেলার বড় বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।


তিনি আরও বলেন, খালের পাড়ে বসবাসকারী অনেকে ময়লা-আবর্জনা, অনুষ্ঠানের উচ্ছিষ্ট খাবার ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকসামগ্রী ফেলে খাল দূষিত করছেন। কোথাও কোথাও বাড়ির বাথরুম ও গোয়ালঘরের বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে খালে ফেলা হচ্ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি খাল-নদী ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। লবণাক্ত পানি পানের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


তিনি বলেন, চিতলমারীর অনেক এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় মধুমতী নদীর পানি শোধন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে চিতলমারীতে সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে উপজেলার দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।


উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বিভিন্ন খাল, নদী ও জলাশয় দখল করে মাটি ভরাট এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অবৈধ স্থাপনা দ্রুত অপসারণ করা হলে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।


তিনি চিতলমারীবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান।


সভায় কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, চিতলমারীবাসীর সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে গভীর নলকূপ স্থাপন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পানির ট্যাংক স্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই ও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণ করা হবে।


তিনি বলেন, মধুমতী নদীর পানি শোধন করে সরবরাহসহ বিকল্প বিভিন্ন উপায়ে চিতলমারীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কাজ চলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।


কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, “চিতলমারীবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাব। কারণ এটি ছিল আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর সমাধান বের করে সুপেয় পানির অভাব লাঘবের চেষ্টা করব। আপনারা আমার সঙ্গে থাকুন এবং দোয়া করবেন।”


আলোচনা সভায় প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চিতলমারীবাসী তাদের সুপেয় পানির সমস্যাগুলো অত্যন্ত সুন্দর ও বাস্তবভিত্তিকভাবে তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য ও প্রস্তাবগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য সমাধানগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, “সুপেয় পানির সংকট নিরসনে আমরা আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও গঠনমূলক পরামর্শ এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”


এ সময় বাগেরহাট জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক এবং চিতলমারী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী শেখ আজমল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।



এমকে/বিএম২৪