ঝিনাইদহে সাইবার সেলের বড় সাফল্য, গ্রেপ্তার ১৬
সূত্রঃ সংগৃহীত
৭ আগস্ট, ২০২৬ ইং
মো. আসাদুজ্জামান
বিশেষ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানের দূরদর্শী দিকনির্দেশনা ও দৃঢ়চেতা কঠোর পদক্ষেপে "সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল" সাম্প্রতিক সময়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। মাদক, সন্ত্রাস, হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুতা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে সর্বমোট ১৬ জন দাগী আসামি। উদ্ধার হয়েছে বিভিন্ন সময়ে লুণ্ঠিত হওয়া ১০৬টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৪৭ হাজার ৪৫৭ টাকা।
পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান যোগদানের পরে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে জেলা জুড়ে ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়া মাদক, সন্ত্রাস, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম, সামাজিক কলহ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে "সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল"-কে পুনরায় ঢেলে সাজান। তারই অংশ হিসেবে জেলা জুড়ে শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। সে সব অভিযানে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের "সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল"-এর দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অপরাধ দমন, ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রদানে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জিত হয়।
গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পরিচালিত জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা ও অপহরণ মামলার ১৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তারসহ বিপুল পরিমাণ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করে এই বিশেষ ইউনিট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুবই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ থানার দুটি পৃথক হত্যা মামলায় ৩ জন আসামি এবং কোটচাঁদপুর থানার একটি ডাকাতি মামলায় ৩ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে সময় ডাকাতদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত হওয়া মালামালও উদ্ধার করে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এ ছাড়া ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ থানার দস্যুতা মামলায় ১১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক ও মোবাইল উদ্ধার করতেও সক্ষম হয়েছে জেলা পুলিশের এই বিশেষ ইউনিট।
সেই সঙ্গে সদর থানার দুটি পৃথক অপহরণ মামলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ২ জন ভিকটিমকে জীবিত উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত ২ অপহরণকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
অপরদিকে, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জিডি মূলে নিখোঁজ থাকা আরও ২ জন ভিকটিমকেও উদ্ধার করেছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।
পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানের বিশেষ দিকনির্দেশনায় অপরাধ দমনের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সেবাতেও অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে "সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল"। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সফল অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ১০৬টি স্মার্ট মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরও করতে সক্ষম হয়েছে এই বিশেষ ইউনিট। সেই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ভুলবশত অন্য নম্বরে চলে যাওয়া কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে লুণ্ঠিত হওয়া ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা উদ্ধার করে ফেরত দিয়েছে পুলিশের এই বিশেষ ইউনিট।
গ্লোবালাইজেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি প্রতিরোধেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে জেলা পুলিশ সাইবার সেল। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টিকটক, টেলিগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ২৮ জন ভিকটিমকে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতেও সক্ষম হয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ফেরত দেওয়ার সময় পুলিশ সুপার বলেন,
"সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও জনগণের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতার সমন্বয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাইবার বুলিং সামাজিক ও আইনগত একটি গুরুতর অপরাধ। নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ থানায় জানাবেন। অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
এদিকে জেলা জুড়ে মাদক, সন্ত্রাস, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম, সামাজিক কলহ, কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ কার্যক্রম দমন ও নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানের বিদ্রোহী সত্তার অসীম কঠোরতা ও ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের এই ধারাবাহিক সাফল্যে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলাবাসী।
এমকে/বিএম২৪









