ভোলায় শিক্ষকদের ছয় দফা দাবি, শর্তহীন জাতীয়করণের আহ্বান

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
ভোলায় শিক্ষকদের ছয় দফা দাবি, শর্তহীন জাতীয়করণের আহ্বান

সংগৃহীত

মোঃ সুলাইমান, ভোলা জেলা প্রতিনিধি


এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শর্তহীনভাবে জাতীয়করণ, নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং অবসর ও কল্যাণ সুবিধা এককালীন পরিশোধসহ ছয় দফা দাবিতে ভোলায় বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ভোলা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘এক ঘোষণায় শর্তহীনভাবে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে জাতীয়করণ করতে হবে। কোনো শর্ত নয়, কোনো বৈষম্য নয়—শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’


তিনি বলেন, দেশের ছয় লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অথচ আর্থিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে তাঁরা সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। এ বৈষম্য দূর করে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।


দেলোয়ার হোসেন আজিজী আরও বলেন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ও শিক্ষা ভাতাসহ সব আর্থিক সুবিধা সরকারি কর্মচারীদের আদলে নিশ্চিত করতে হবে। নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা নির্ধারণের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ, অবসর ও কল্যাণ সুবিধা এককালীন পরিশোধ এবং বদলি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।


তিনি আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অবসর সুবিধা এককালীন পরিশোধের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান। শিক্ষকদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


‘২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হলে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান নয় কেন?’


সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছিল। তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে দীর্ঘসূত্রতা কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।


তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। তাঁদের দাবি উপেক্ষা না করে আর্থিক নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


শিক্ষকদের ছয় দফা দাবি


সম্মেলনে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—


১. সব এমপিওভুক্ত মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শর্তহীনভাবে জাতীয়করণ।


২. স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ।


৩. ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও মিড-ডে মিল চালু।


৪. সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ও শিক্ষা ভাতা প্রদান।


৫. নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা।


৬. অবসর ও কল্যাণ সুবিধা এককালীন পরিশোধ এবং আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সুপার ও সহকারী শিক্ষকদের দ্রুত বদলির আদেশ জারি।


বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার মান উন্নয়নে তাঁরা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ ও জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে এসব দাবি বাস্তবায়ন জরুরি।


প্রিন্সিপাল আবু জাফর মো. মাইনুদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ সফিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রিন্সিপাল ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন আজাদী ও প্রিন্সিপাল মো. জয়নাল আবেদীন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রিন্সিপাল মো. লোকমান হোসেন।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন আজিজীকে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের ভোলা জেলা শাখার পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফোরামের ভোলা জেলা সদস্যসচিব অধ্যাপক আমির হোসেন, সদর উপজেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল আইয়ুব আলীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। জেলার বিভিন্ন মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহ-সুপার এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা সম্মেলনে অংশ নেন।


সম্মেলন থেকে শিক্ষকদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।


এমকে/বিএম২৪