সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, বিপাকে পাঁচ শতাধিক পর্যটক
সংগৃহীত
চাই সুই উ মারমা, রাঙামাটি প্রতিনিধি
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে যাতায়াতের সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা বিপাকে পড়েছেন।
সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের ১০ নম্বর, রেতকাবা ও উজোবারসহ বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বলেন, সকাল থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। তবে রোগীবাহী গাড়ি, সংবাদকর্মীদের যানবাহন, ওষুধ পরিবহন ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারণে সকালে সাজেক থেকে পর্যটকবাহী কোনো গাড়ি বের হতে পারেনি। দুপুর ২টার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় যান চলাচল সম্ভব হলে পর্যটকেরা ফিরতে পারবেন। তিনি জানান, শনিবার সেনাবাহিনীর স্কটে প্রায় ১০০টি গাড়ি সাজেকে প্রবেশ করেছে। এসব গাড়িতে পাঁচ শতাধিক পর্যটক থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এক যৌথ বিবৃতিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সাজেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ৮ অক্টোবর সমাবেশ করে প্রশাসনকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা অবরোধের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, জেএসএসকে সরানোর উদ্দেশ্যে অবরোধ ডাকা হলে তা জনগণের স্বার্থে করা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র কর্মীরা ওই দুই সংগঠনকে ব্যবহার করে জেএসএসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সাজেকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, অবরোধের ডাক দেওয়া সংগঠন দুটি দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে ইউপিডিএফেরও একই অবস্থান রয়েছে। তবে সংগঠন দুটির সঙ্গে ইউপিডিএফের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
অংগ্য মারমা আরও বলেন, পাহাড়ি জনগণের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগের সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।
এমকে/বিএম২৪









